(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) – সচরাচর নয়, একেবারেই বিরল! মঞ্চে যখন শিল্পের সঙ্গে মানবিকতার মিলন ঘটে, তখন সেই পরিবেশনা আর সাধারণ থাকে না। ঠিক তেমনই এক আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমণ্ডল। এক মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার সহপাঠীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে মধ্যযুগের এক প্রাচীন লোকনাট্য — ‘অষ্টক গান: নৌকাবিলাস’।
কেন এই বিশেষ প্রদর্শনী?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন শেখ মুমতারিন অথৈ সম্প্রতি আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালীন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন। তার জটিল অপারেশনসহ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৫ লক্ষ টাকা।
প্রিয় বন্ধু অথৈ’র পাশে দাঁড়াতে থেসপিয়ান ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে। শিল্পকে তারা এখন পরিণত করেছে সংহতির হাতিয়ারে।
যা দেখবেন দর্শক:
শিক্ষার্থীরা মঞ্চস্থ করছে বড়ু চণ্ডীদাসের অমর সৃষ্টি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের চতুর্থ খণ্ডের অংশ ‘নৌকাবিলাস’। নাট্যকার সাইদুর রহমান লিপন স্যারের নির্দেশনায়, এটি দেশের নাট্যকলার একাডেমিক ইতিহাসে প্রথম অষ্টক গান পরিবেশনা! নড়াইল জেলার পালাকার অরুণ কুমার বিশ্বাসের পরিবেশনা রীতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ঐতিহ্যবাহী পালাটির দ্বিতীয় সংস্করণ মঞ্চে আসছে।
নাট্যকলার ইতিহাসে নতুন দিগন্ত:
শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র অর্থ সংগ্রহ করছেন না, তারা একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাট্যকলার একাডেমিক অঙ্গনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন। অষ্টক গানের মতো একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনাকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রযোজনার অংশ করে আনা নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
টিকেট কিনুন, জীবন বাঁচান!
এই দুটি বিশেষ প্রদর্শনী কেবল একটি নাটক দেখা নয়, বরং একজন সহপাঠীর জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে অংশ নেওয়া।
আয়োজকদের আহ্বান স্পষ্ট—আসুন, শিল্প, সহমর্মিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে অথৈ’র পাশে দাঁড়াই। আপনার একটি টিকেট অথৈ’র দ্রুত আরোগ্য লাভে বড় অবদান রাখতে পারে। টিকেট বুক করুন এখনই!