জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের লড়াকু সৈনিক, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি আর নেই। আজ বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলে আসা দুই আততায়ী তাকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের নিউরোসার্জিক্যাল টিমের বরাত দিয়ে তার চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ জানান, বাংলাদেশ সময় আজ রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গতকালই সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান তাকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থার কথা অবহিত করেছিলেন।
ওসমান হাদির মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ও র্যাব যৌথ অভিযানে এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মূল শ্যুটার হিসেবে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ওসমান হাদির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার দেশজুড়ে তার জন্য গায়েবানা জানাজা ও দোয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। ঢাকায় মরদেহ পৌঁছানোর পর কেন্দ্রীয়ভাবে বড় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
নিউজ ডেস্কে বিশেষ নোট: আজ রাত থেকেই রাজধানীর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্র-জনতার জমায়েত বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তাকে আবরার ফাহাদ ও আবু সাঈদের কাতারের বীর হিসেবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।