Logo
প্রিন্টের তারিখ: 20 September 2026 | প্রকাশের তারিখ: Sep 20, 2026

সংবাদ শিরোনাম : দাফন নিয়ে প্রোপাগান্ডা ও শিবিরের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিতর্ক: উত্তপ্ত ঢাবি ক্যাম্পাস

দাফন নিয়ে প্রোপাগান্ডা ও শিবিরের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিতর্ক: উত্তপ্ত ঢাবি ক্যাম্পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির দাফন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সুপরিকল্পিত গুজব ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল পর্যায়ের নেতাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং সংঘাত উসকে দেওয়ার মতো তথ্য প্রচার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

​গুজবের সূত্রপাত ও উসকানিমূলক প্রচারণা

​শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিবিরের দায়িত্বশীল পদে থাকা এবং একটি হলের সাবেক ভিপি হিসেবে পরিচিত মো. বোরহান উদ্দিন (Md Borhan Uddin) তার ফেসবুক আইডিতে দাবি করেন যে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে হাদির কবর খুঁড়তে বাম দল, ছাত্রদল ও অন্যান্য নতুন দলগুলো বাধা দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ গেট বন্ধ করে দিয়েছে এবং সংবাদকর্মীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

​বোরহানের এই পোস্ট মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এবং মো. ফোজায়েল আহমাদ (Md Fojayel Ahmad) ও মাহতাব আজমাইন রিয়াদ (Mahtab Azmain Riyadh)-এর মতো শিবিরের অন্যান্য সমর্থকরা একে ভিত্তি করে "সম্মিলিত প্রতিরোধ" গড়ে তোলার ডাক দেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

​সংগঠনের ভেতরেই ‘পাল্টাপাল্টি’ অবস্থান

​মজার বিষয় হলো, বোরহানের এই উসকানিমূলক পোস্টের নিচেই সংগঠনের অন্য এক দায়িত্বশীল নেত্রী প্রতিবাদ জানান। ডাকসুর সাবেক শিবির প্রতিনিধি উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া (Umma Uswatun Rafia) সেখানে কমেন্ট করেন, “ভুয়া খবর ছড়াচ্ছেন কেন? এরকম সময়েও রাজনীতি?”

​সংগঠনের ভেতর থেকে আসা এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা "দ্বিমুখী রাজনীতি" বা "মোনাফেকি" হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এক পক্ষ প্রোপাগান্ডা চালিয়ে মাঠ গরম করছে, আর অন্য পক্ষ তা অস্বীকার করে জনমনে 'পরিচ্ছন্ন' ভাবমূর্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

​সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের ভূমিকা

​ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতিকে "লাশ নিয়ে রাজনীতি" হিসেবে অভিহিত করেছেন। আবিদ আব্দুল্লাহ (Abid Abdullah) নামক এক শিক্ষার্থী বলেন, “যারা পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়িয়ে শান্ত ক্যাম্পাসকে অশান্ত করতে চাচ্ছে, তাদের অবিলম্বে প্রক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা উচিত।”

​উল্লেখ্য, ওসমান হাদির মৃত্যুতে ছাত্রদল, শিবিরসহ সব পক্ষই শোক প্রকাশ করেছে। কিন্তু দাফনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। বর্তমানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ঢাবি ক্যাম্পাস ও মসজিদ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

​বিশ্লেষণ: রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন ‘হাফেজ’ বা ‘আলেম’ পরিচয়ধারী ব্যক্তির মাধ্যমে গুজব ছড়ানো সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে খেলার শামিল, যা সংঘাতকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্য ডিকোড বেঙ্গল
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF