লন্ডন, যুক্তরাজ্য: বিশ্বখ্যাত জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে লন্ডনে একটি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) লন্ডনের সিটি এলাকায় অবস্থিত 'অ্যাসপেন ইন্স্যুরেন্স' (Aspen Insurance) অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট চলাকালীন তাকে আটক করা হয়।
লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, ২২ বছর বয়সী গ্রেটাকে 'টেরোরিজম অ্যাক্ট ২০০০' (Terrorism Act 2000) বা সন্ত্রাসবাদ আইনের ১৩ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন তার হাতে একটি প্ল্যাকার্ড ছিল যাতে লেখা ছিল: "আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন বন্দিদের সমর্থন করি। আমি গণহত্যার বিরোধী।" পুলিশের দাবি, গ্রেটা এমন একটি সংগঠনের (প্যালেস্টাইন অ্যাকশন) প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন যা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ বা 'প্রস্ক্রাইবড' (Proscribed) তালিকায় রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার 'প্যালেস্টাইন অ্যাকশন' নামক সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
'প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন' (Prisoners for Palestine) নামক একটি গ্রুপ এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বর্তমানে কারাগারে বন্দি থাকা প্যালেস্টাইন অ্যাকশন-এর সদস্যদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা, যারা গত নভেম্বর থেকে আমরণ অনশন পালন করছেন।
বিক্ষোভকারীরা 'অ্যাসপেন ইন্স্যুরেন্স' অফিসকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণ হিসেবে জানায়, এই বীমা কোম্পানিটি ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'এলবিট সিস্টেমস' (Elbit Systems)-কে সহায়তা করে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে দুজন বিক্ষোভকারী ওই বিমা অফিসের সামনে লাল রঙ স্প্রে করেন এবং নিজেদের ভবনের সাথে আটকে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পর গ্রেটা থুনবার্গ সেখানে পৌঁছান এবং প্ল্যাকার্ড হাতে শান্তিপূর্ণভাবে বসে পড়েন। পুলিশ প্রথমে লাল রঙ দেওয়া দুজনকে আটক করে এবং পরবর্তীতে গ্রেটাকে প্রিজন ভ্যানে করে নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারের ঠিক আগের দিন ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় গ্রেটা বলেছিলেন:
"ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা বন্ধে রাষ্ট্রগুলো ব্যর্থ হয়েছে। যারা এই গণহত্যা থামানোর চেষ্টা করে আজ তারাই রাজনৈতিক বন্দি। সরকারের উচিত তাদের নায্য দাবি মেনে নেওয়া এবং অনশনরতদের মুক্তি দেওয়া।"
মানবাধিকার কর্মীরা এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ আইন ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করা হচ্ছে। গ্রেটা থুনবার্গ এর আগেও জলবায়ু ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন দেশে আটক হয়েছেন।