ফরিদপুরের টাইমস ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ইশফাক মিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য রাস্তায় এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার প্রমাণ মিললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা এবং অভিযুক্তকে "মানসিক রোগী" সাজিয়ে পার পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টায় ফুঁসে উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
গত ১৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে আইন বিভাগের এক ছাত্রী তার বান্ধবীদের নিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাক মিয়া। তিনি সবার সামনে ছাত্রীর পথ আগলে ধরেন এবং কোনো অনুমতি ছাড়াই ছাত্রীর মুখের সামনের চুল হাত দিয়ে সরিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, উপস্থিত সবার সামনেই তিনি ওই ছাত্রীকে নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিচার চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সাফাই গাইতে শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি— "রেজিস্ট্রার সাহেবের মাথায় একটু সমস্যা আছে, তাই এমন করেছেন।" একজন পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগকে এভাবে হালকা করে দেখায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, "যদি উনার মাথায় সমস্যাই থাকে, তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে আছেন কীভাবে?"
শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। ফুটেজে ইশফাক মিয়ার আচরণ স্পষ্টভাবে অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। কিন্তু তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রভাবশালী 'শেয়ারহোল্ডার' হওয়ায় প্রশাসন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
এই অপমানের বিচার এবং রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে টানা দুই দিন ধরে টাইমস ইউনিভার্সিটির সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন: