নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্বগাথাকে এক 'প্রশ্নহীন ইতিহাস' হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল। সম্প্রতি এক নিবন্ধে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর তৎকালীন ভয়াবহ চিত্র নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা সহজ নয়, তবে সত্য এটাই যে জিয়ার 'উই রিভল্ট' ঘোষণা ছিল দিশেহারা জাতির জন্য এক সঞ্জীবনী শক্তি।
বিদ্রোহের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত
অধ্যাপক পাভেল উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে মেজর জিয়া চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। 'উই রিভল্ট' বা 'আমরা বিদ্রোহ করলাম'—এই সুষ্পষ্ট উচ্চারণের মাধ্যমে তিনি এবং তাঁর অধীনস্থ বাঙালি সৈনিকেরা নিশ্চিত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আত্মত্যাগ
নিবন্ধে উঠে এসেছে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত ত্যাগের কথা। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দুই সন্তান তারেক ও আরাফাত রহমান চরম জীবনঝুঁকির মুখে ছিলেন। নিজের পরিবারকে নিরাপদ করার চেয়ে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করাই ছিল তাঁর কাছে বড় অগ্রাধিকার।
ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ
অধ্যাপক পাভেল আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার পরপরই রাজনৈতিক হীনম্মন্যতা থেকে ইতিহাসের এক ঘৃণ্য বিকৃতি শুরু হয়েছিল। বীর-উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত একজন দেশপ্রেমিক সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্স অধিনায়কের চরিত্র হননের অপচেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি সংবিধানে অবাস্তব ও প্রশ্নবিদ্ধ কিছু কাহিনী যুক্ত করে জিয়ার অবদানকে আড়াল করার চেষ্টাও হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জেড ফোর্স ও রণাঙ্গনের বীরত্ব
নিবন্ধে আরও বলা হয়, ভারতীয় অনীহাকে উপেক্ষা করে জিয়া গড়ে তুলেছিলেন নিয়মিত সেনাবাহিনী 'জেড ফোর্স'। কামালপুর, রৌমারী ও সিলেট মুক্ত করার যুদ্ধে এই বাহিনীর বীরত্বগাথা সম্মুখ সমরের এক অনন্য উদাহরণ। লেখক মনে করেন, জিয়াউর রহমানের বীরত্ব ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সবশেষে তিনি ইতিহাসের এই আত্মত্যাগ ও বীরত্বের মুহূর্তগুলোকে রাজনৈতিক সংকীর্ণতামুক্ত হয়ে নির্মোহভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান।