বিজ্ঞানীদের মতে, সুপার এমপ্যাথ হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে মস্তিষ্কের 'মিরর নিউরন সিস্টেম'। ড. এলেইন এন. অ্যারন এবং ড. জুডিথ অরলফের গবেষণা অনুযায়ী, এই ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের 'ইনসুলা' অংশে রক্ত সঞ্চালন ও উদ্দীপনা সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। ফলে তারা অন্য কোনো ব্যক্তির অনুভূতি নিজের ভেতরে ঠিক সেভাবেই অনুভব করেন, যেভাবে সেই ব্যক্তিটি করছেন।
মজার বিষয় হলো, সুপার এমপ্যাথদের নিউরাল নেটওয়ার্ক এতটাই দ্রুত কাজ করে যে, বর্তমানের EEG বা MRI যন্ত্রের পক্ষেও অনেক সময় সেই তথ্যের প্রবাহ ট্র্যাক করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, অনেক সুপার এমপ্যাথের এই বিশেষ ক্ষমতা তৈরি হয় শৈশবের কোনো ট্রমা বা বিশৃঙ্খল পরিবেশ থেকে। ছোটবেলায় প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার তাগিদে (Survival Mechanism) তারা চারপাশের মানুষের মেজাজ বা পরিস্থিতির সূক্ষ্ম পরিবর্তন বোঝার ক্ষমতা অর্জন করেন। একে বলা হয় 'অডিটরি এমপ্যাথি'—যেখানে তারা কেবল কথা নয়, গলার স্বরের সামান্য পরিবর্তন বা নীরবতার ভাষাও বুঝতে পারেন।
সাধারণ এমপ্যাথরা প্রায়ই স্বার্থপর বা নার্সিসিস্ট ব্যক্তিদের দ্বারা শোষিত হন। কিন্তু সুপার এমপ্যাথরা এখানে সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের রয়েছে প্রখর 'ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়'। তারা মুহূর্তেই অন্যের ভণ্ডামি বা মিথ্যে ধরে ফেলতে পারেন। তারা অন্যের চরিত্রের জন্য আয়না হিসেবে কাজ করেন; ফলে কোনো মিথ্যেবাদী বা ভন্ড ব্যক্তি তাদের সামনে গেলেই অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন।
"সুপার এমপ্যাথরা দয়ালু, কিন্তু তাদের সীমানা (Boundary) লঙ্ঘন করা অসম্ভব। কেউ তাদের দয়ার সুযোগ নিতে চাইলে তারা মুহূর্তেই কঠোর হয়ে উঠতে পারেন।"
প্যারানরমাল এবং স্পিরিচুয়াল বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপার এমপ্যাথদের 'হার্ট চক্র' এবং 'থার্ড আই চক্র' অত্যন্ত সক্রিয় থাকে। তারা কেবল জীবিত মানুষ নয়, অনেক সময় পরলৌকিক সত্তা বা স্পিরিটদের আবেগও অনুভব করতে পারেন। মহাজাগতিক ধূলিকণা দিয়ে গঠিত আমাদের শরীর যেভাবে মহাজাগতিক তরঙ্গ গ্রহণ করে, সুপার এমপ্যাথদের অবচেতন মন সেই তরঙ্গগুলো ধরতে বেশি পারদর্শী। একারণেই তারা অনেক সময় স্বপ্ন বা ধ্যানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ঘটনার ইঙ্গিত পান।
উপসংহার:
সুপার এমপ্যাথ হওয়া একদিকে যেমন আশীর্বাদ, অন্যদিকে এটি একটি বিশাল মানসিক চাপ। তবে সঠিক সচেতনতা এবং সীমানা নির্ধারণের মাধ্যমে তারা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে অতুলনীয় ভূমিকা রাখতে পারেন। তারা কেবল সমাজের সদস্য নন, তারা যেন মানব বিবর্তনের এমন এক স্তরের প্রতিনিধি, যারা পৃথিবীকে অনুভব করেন অন্য এক উচ্চতা থেকে।