নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৮ এপ্রিল, ২০২৬
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের (RMG) ওপর বড় ধরনের সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
গত মার্চ মাসে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিশন গ্রিয়ার ঘোষণা করেছিলেন যে, ১৯৩৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা (Section 301) অনুযায়ী বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হচ্ছে।
তদন্তের দুটি প্রধান দিক রয়েছে:
১. বাধ্যতামূলক শ্রম (Forced Labor): ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া শুনানিতে দেখা হবে বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় শ্রমিকদের বাধ্য করা হচ্ছে কি না।
আমেরিকা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বাজারে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮.৬৯ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল অংকের বাণিজ্য এখন ঝুঁকির মুখে থাকলেও নীতিনির্ধারক পর্যায়ে প্রস্তুতির ঘাটতি স্পষ্ট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুনানির মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত বেসরকারি অংশীজনদের (Stakeholders) সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক করতে পারেনি।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গত মাসে এই তদন্তকে "অস্বস্তিকর" হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
যদি এই শুনানিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে আমেরিকা বাংলাদেশি পোশাক আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত শুল্ক (Additional Tariff) আরোপ করতে পারে। এটি ঘটলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পোশাকের দাম বেড়ে যাবে এবং রপ্তানি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, সরকারকে অতি দ্রুত একটি 'পজিশন পেপার' তৈরি করতে হবে যেখানে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কার ও কমপ্লায়েন্সের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হবে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি পেতে কিছুটা দেরি হলেও তারা এখন সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই খাতের ওপর এমন বড় হুমকির মোকাবিলায় আমরা কি সময়ের চেয়ে পিছিয়ে নেই?