Logo
প্রিন্টের তারিখ: 03 June 2026 | প্রকাশের তারিখ: Jun 3, 2026

সংবাদ শিরোনাম : মার্কিন তদন্তের মুখে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত: তথ্য সংগ্রহে ধীরগতি ও প্রস্তুতির অভাব নিয়ে উদ্বেগ

মার্কিন তদন্তের মুখে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত: তথ্য সংগ্রহে ধীরগতি ও প্রস্তুতির অভাব নিয়ে উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৮ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের (RMG) ওপর বড় ধরনের সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। 'ফোর্সড লেবার' বা বাধ্যতামূলক শ্রম এবং 'অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা' (Excess Capacity) সংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) যে বিশেষ তদন্ত শুরু করেছে, তার শুনানি আগামী ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শুনানির আগে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ ও জোরালো অবস্থান তৈরিতে দৃশ্যত ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


কী এই তদন্ত?

গত মার্চ মাসে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিশন গ্রিয়ার ঘোষণা করেছিলেন যে, ১৯৩৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা (Section 301) অনুযায়ী বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। এই তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো—এই দেশগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা বা নীতি মার্কিন বাণিজ্যের জন্য বৈষম্যমূলক কি না এবং সেখানে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা।

তদন্তের দুটি প্রধান দিক রয়েছে: ১. বাধ্যতামূলক শ্রম (Forced Labor): ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া শুনানিতে দেখা হবে বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় শ্রমিকদের বাধ্য করা হচ্ছে কি না। ২. অতিরিক্ত উৎপাদন (Excess Production): ৫ মে থেকে শুরু হওয়া অন্য একটি শুনানিতে খতিয়ে দেখা হবে বাংলাদেশ প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে কি না।

প্রস্তুতির অভাব ও উদ্বেগের জায়গা

আমেরিকা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বাজারে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮.৬৯ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল অংকের বাণিজ্য এখন ঝুঁকির মুখে থাকলেও নীতিনির্ধারক পর্যায়ে প্রস্তুতির ঘাটতি স্পষ্ট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুনানির মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত বেসরকারি অংশীজনদের (Stakeholders) সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক করতে পারেনি। এমনকি বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ-র মতো বড় সংগঠনগুলোর কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শেষ হয়নি।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গত মাসে এই তদন্তকে "অস্বস্তিকর" হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশে 'অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা' বা 'ফোর্সড লেবার'-এর কোনো সুযোগ নেই। তবে তথ্যভিত্তিক শক্তিশালী যুক্তি ছাড়া শুধু মৌখিক দাবিতে মার্কিন তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।

সম্ভাব্য ঝুঁকি

যদি এই শুনানিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে আমেরিকা বাংলাদেশি পোশাক আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত শুল্ক (Additional Tariff) আরোপ করতে পারে। এটি ঘটলে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের পোশাকের দাম বেড়ে যাবে এবং রপ্তানি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এখন করণীয় কী?

ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, সরকারকে অতি দ্রুত একটি 'পজিশন পেপার' তৈরি করতে হবে যেখানে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কার ও কমপ্লায়েন্সের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হবে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি পেতে কিছুটা দেরি হলেও তারা এখন সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই খাতের ওপর এমন বড় হুমকির মোকাবিলায় আমরা কি সময়ের চেয়ে পিছিয়ে নেই?

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্য ডিকোড বেঙ্গল
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ ক্রিয়েটিভ ডিজাইন
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF