নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট সাময়িক অস্থিরতা ও পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি আগামীকাল থেকেই শেষ হতে যাচ্ছে। সরকারের হাতে থাকা পর্যাপ্ত মজুত এবং নতুন করে আমদানিকৃত জ্বালানি বন্দরে এসে পৌঁছানোয় এই স্বস্তির খবর মিলেছে। অসাধু চক্রের কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা রুখে দিয়ে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতিদিনের স্বাভাবিক জ্বালানি চাহিদা যেখানে মাত্র ১ হাজার টন, সেখানে গত এক মাসে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার টন করে জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। মূলত সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কের কারণে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের হিড়িক পড়েছিল। যারা সচরাচর ১০০ টাকার তেল নিতেন, তারাও পাম্পে গিয়ে ট্যাংক ফুল না করে ফেরেননি। এই অস্বাভাবিক চাপের কারণেই পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছিল।
বর্তমানে দেশে ৫০ হাজার টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে, যা দিয়ে আগামী ৪৪ দিন অনায়াসে চলবে। এর মধ্যে আশাব্যঞ্জক তথ্য হলো, দেশে ব্যবহৃত অকটেন ও পেট্রোলের প্রায় ৫২% আমাদের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত হয়। ফলে বৈশ্বিক অস্থিরতায় এই দুটি জ্বালানি নিয়ে সংকটের কোনো অবকাশ নেই।
আমদানি পরিস্থিতির সর্বশেষ চিত্র:
বাজারের অস্থিরতাকে পুঁজি করে একদল অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদার কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দাম বাড়ানোর অপেক্ষায় ছিল। তবে সরকার শক্ত হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ করায় এবং তেলের সরবরাহ বাড়িয়ে দেওয়ায় সেই অশুভ তৎপরতা ভেস্তে গেছে।
উন্নত দেশগুলো যেখানে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের এমন স্থিতিশীল অবস্থা সাধারণ নাগরিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা এড়িয়ে চললে পরিস্থিতি আরও দ্রুত স্বাভাবিক হবে।