শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইনকিলাব মঞ্চের পেজে জিন্নাহর সাদাকালো প্রতিকৃতিসহ পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় ও তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।
উর্দুপ্রেমীর জন্য বাংলা হরফ
ইনকিলাব মঞ্চের পোস্টে জিন্নাহকে ‘উপমহাদেশের অন্যতম রাজনীতিবিদ, দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টিকে তীব্র কটাক্ষ করে বলছেন, যে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার তালিকা থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিলেন জিন্নাহ, আজ সেই বাংলাতেই তাকে মহিমান্বিত করাটা ইতিহাসের অন্যতম বড় রসিকতা। জিন্নাহ বেঁচে থাকলে হয়তো বাংলায় তাকে এই শ্রদ্ধা জানানোর অপরাধেই ইনকিলাব মঞ্চকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ ধরাতেন।
৭১-এ ডোবা দ্বিজাতিতত্ত্বের পুনর্জীবন?
পোস্টে জিন্নাহকে ‘দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তা’ হিসেবে সম্মান জানানোর বিষয়টি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। সমালোচকদের মতে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডের মানুষ যে দ্বিজাতিতত্ত্বকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছিল, ২০২৬ সালে এসে সেই মৃত তত্ত্বের গায়ে কৃত্রিম সুবাস মাখানোর চেষ্টা রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই প্রকাশ।
বিপ্লব নাকি অতীতে পিছুটান?
‘ইনকিলাব’ শব্দের অর্থ বিপ্লব বা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া হলেও, নেটিজেনদের মতে জিন্নাহর মতো বিতর্কিত ঐতিহাসিক চরিত্রকে আঁকড়ে ধরে রাজনীতি করার এই চেষ্টা মূলত ‘ইতিহাসের উল্টো রথ’। আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করার অজুহাতে জিন্নাহর ভূতে ভর দিয়ে নতুন বয়ান তৈরির এই প্রচেষ্টাকে তরুণ প্রজন্মের একাংশ স্ববিরোধী ও হাস্যকর বলে গণ্য করছে।
ইতিহাসের নির্মম সত্যি এটাই যে, বাংলা বর্ণমালার ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশে আজ সেই বাংলা ভাষাতেই স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা ভাষার প্রধান বিরোধীকে!