১০ জানুয়ারি ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের রাজপথে চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতাকে নিছক অর্থনৈতিক ক্ষোভ হিসেবে দেখা হলেও, এর নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর ষড়যন্ত্রের ছাপ ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তেহরানের অভিযোগ, দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটাতে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে যে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ (Hybrid War) চালিয়ে আসছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তারই চূড়ান্ত রূপ।
পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতা ও মার্কিন অর্থায়ন ইরানের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত কোনো আন্দোলন নয়। এর পেছনে কাজ করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) এবং ইসরায়েলি মোসাদের যৌথ পরিকল্পনা। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভকারীদের একাংশকে সংগঠিত করতে এবং সহিংসতা উসকে দিতে বিদেশ থেকে বিপুল অর্থায়ন করা হচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যারা রাস্তায় নেমে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করছে, তারা সাধারণ জনতা নয়; বরং তারা আমেরিকা ও জায়নবাদী শক্তির ‘ভাড়াটে এজেন্ট’। তাদের মূল লক্ষ্য ট্রাম্প প্রশাসনকে সন্তুষ্ট করা।
ট্রাম্পের প্রকাশ্য উস্কানি ও হস্তক্ষেপ বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকাও আর গোপন নেই। কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে তিনি সরাসরি ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘উদ্ধার’ করার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, হোয়াইট হাউসের এই ধরনের প্রকাশ্য সমর্থন বিক্ষোভকারীদের সহিংস হতে উৎসাহিত করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ’ (Maximum Pressure) নীতির আওতায় ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃত্রিমভাবে মুদ্রাস্ফীতি তৈরি করে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলা। বর্তমান পরিস্থিতি সেই মার্কিন কৌশলেরই ফলাফল।
রেজা পাহলভি ও পশ্চিমা এজেন্ডা ইরানের ক্ষমতাচ্যুত রাজপরিবারের সদস্য রেজা পাহলভি, যিনি আমেরিকায় বসবাসরত, এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সরকার পতনের ডাক দিয়েছেন। তেহরান মনে করে, পাহলভি মূলত আমেরিকার পুতুল হিসেবে কাজ করছেন এবং পশ্চিমা মিডিয়াগুলো তাকে ব্যবহার করে ইরানে পশ্চিমা ধাঁচের সরকার বসানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।
নিষেধাজ্ঞাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটন চেয়েছিল জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করতে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ওষুধের মতো মানবিক পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যাংকিং খাতের ওপর মার্কিন অবরোধের কারণেই আজ সাধারণ ইরানিরা কষ্টের শিকার। আর এই দুর্ভোগকে পুঁজি করেই আমেরিকা এখন তার রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে এটা পরিষ্কার যে, ইরানের বর্তমান অস্থিরতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।
Online Desk