ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কর্নেল অলির 'ইউ-টার্ন': মুক্তিযোদ্ধা যখন জামায়াতের সাথী

  • News Release Date : Nov 6, 2026
কর্নেল অলির 'ইউ-টার্ন': মুক্তিযোদ্ধা যখন জামায়াতের সাথী Images Caption :


​এই ঘটনার সমান্তরালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও একটি বিস্ময়কর দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি, যিনি একাত্তরের রণাঙ্গনে নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, তিনি আজ রাজনৈতিক জোট গড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাথে—যে সংগঠনটি ইতিহাসের পাতায় মুক্তিযুদ্ধের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে স্বীকৃত।

​ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে গিয়ে এই 'আদর্শিক বিচ্যুতি' সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। জামায়াত আমীরের মুখে 'We revolt' (আমরা বিদ্রোহ করেছি) শুনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিদ্রুপের সুরে বলছেন, "সেলুকাস! যারা বিদ্রোহ দমন করতে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর হয়েছিল, তারা আজ বিদ্রোহের দাবিদার!"

​'স্বাধীন বাংলাদেশ ২.০' বনাম সলিড ইতিহাস

​ইদানীং একটি বিশেষ মহলের মুখে 'স্বাধীন বাংলাদেশ ২.০' নামক শব্দবন্ধটি বারবার শোনা যাচ্ছে। এই পরিভাষার আড়ালে মূলত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও এর মূল ইতিহাসকে হালকা করে দেখার একটি সূক্ষ্ম প্রোপাগান্ডা কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​বিশ্লেষকদের মতে, সলিড জিনিসের বা সত্যের ন্যারেটিভ ভাঙার কাজ সাময়িকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূলে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। এই ভিত্তিপ্রস্তর উপড়ে ফেলার যেকোনো চেষ্টা শেষ পর্যন্ত 'হিতে বিপরীত' হতে বাধ্য।

​The Decode Bengal-এর পর্যবেক্ষণ

​ইতিহাসের সত্য সবসময়ই কঠোর। বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে যখন একটি জাতির মুক্তি সংগ্রামের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তখন বুঝতে হবে এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে। সাইদুজ্জামান নূর আলভীর মতো ছাত্র নেতাদের এই ধরণের 'পসরা' সাজানো বয়ান এবং প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাদের জামায়াত-প্রেম একই সুতোয় গাঁথা কি না—তা আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​মহান স্বাধীনতা দিবসের এই ক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমিক প্রতিটি নাগরিকের শপথ হওয়া উচিত—ইতিহাস বিকৃতির এই আধুনিক ষড়যন্ত্রকে রুখে দেওয়া।


Posted by : Online Desk

Comment Box