বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের আগামী নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও নতুন সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সংগঠনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং রাজপথের আন্দোলন জোরদার করতে একজন ‘পরীক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন’ নেতৃত্বের দাবি তুলেছেন সাধারণ কর্মীরা। এই দৌড়ে ছাত্রদলের সোনালী সময় ফিরিয়ে আনতে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক হিসেবে আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি প্রার্থী ও রাজপথের লড়াকু সৈনিক মোস্তাফিজুর রহমান।
সংগ্রাম ও ত্যাগের এক অগ্নিপরীক্ষিত নাম
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, মোস্তাফিজুর রহমান কেবল পদের দাবিদার নন, বরং তিনি ত্যাগের এক জীবন্ত দলিল। বিগত সময়ে রাজপথে আন্দোলন চলাকালীন ছাত্রলীগের নৃশংস হামলার শিকার হন তিনি। একপর্যায়ে তাকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়া হলেও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। যমে-মানুষে লড়াই করে ফিরে আসা এই ছাত্রনেতা বারবার কারানির্যাতন ও দমন-পীড়নের শিকার হলেও সংগঠনের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
‘ক্লিন ইমেজ’ ও বিএনপির পরিশুদ্ধতার রাজনীতি
সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বর্তমানে রাজনীতিতে 'পরিশুদ্ধতা' ও 'স্বচ্ছ ভাবমূর্তির' ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীরা মনে করেন, বিএনপির এই পরিশুদ্ধতার পরিচয় দিতে মোস্তাফিজুর রহমানের মতো 'ক্লিন ইমেজের' নেতাদের বিকল্প নেই। তৃণমূলের কর্মীদের দাবি—যদি মোস্তাফিজের মতো নিবেদিতপ্রাণ ও নীতিবান নেতাকে আদিষ্ট না করা হয়, তবে ছাত্রদল তার ঐতিহাসিক গরিমা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তৃণমূলের আস্থার প্রতিফলন
ছাত্রদলের জেলা ও ইউনিট পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান একজন আপাদমস্তক ‘কর্মীবান্ধব’ নেতা। সাধারণ কর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে থাকা এবং সংগঠনের কঠিন সময়ে রাজপথ আগলে রাখার কারণে তার প্রতি তৃণমূলের রয়েছে গভীর বিশ্বাস। তারা বলছেন, “আমরা এমন একজন সভাপতি চাই যিনি শুধু নেতার পদ নয়, বরং সংগ্রাম দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং যার ইমেজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ইতিবাচক।”
আগামীর চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ছাত্রদলকে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে রূপান্তর করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। কর্মীরা বিশ্বাস করেন, মোস্তাফিজুর রহমান সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখতে এবং আগামীর আন্দোলনে সম্মুখভাগ থেকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। তার হাতে নেতৃত্ব অর্পিত হলে ছাত্রদলে পুনরায় সেই ‘সোনালী সময়’ ফিরে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
Online Desk